বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না কুড়িগ্রামের জোবেদা আক্তারের

আমাদের প্রতিদিন
2024-02-28 14:53:47

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক:

বলা যায় জন্মের পর থেকেই শুরু হয় দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম। সমাজের কটু কথা, অর্থনৈতিক বাধা ও নানা প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে মেধাকে পুঁজি করে ছুটে চলেছেন স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে। ভালো ফলাফলের জন্য স্কুল ও কলেজে পেয়েছেন বোর্ড বৃত্তি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও অনুষদে প্রথম হওয়ায় পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকও। এখন তার স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ করা। তবে সেই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বাসিন্দা  নিম্নবিত্ত এক পরিবারে জন্ম জোবেদা আক্তারের।

সম্প্রতি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তিনি। প্লাকাডে লেখা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে আমার প্রতি অনিয়মের চাই।

এবিষয়ে জানতে চাইলে জোবেদা আক্তার কান্না কণ্ঠে বলেন, আমি স্নাতক ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ১ম শ্রেণিতে ১ম হয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হই এবং স্নাতকোত্তরেও ১ম শ্রেণিতে ১ম হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ সম্মান প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাই। গত ১৯ ডিসেম্বর ২০২২ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রতœতত্ত¡ বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে আবেদন করি। কিন্তু গত ২১ সেপ্টেম্বর সেই নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও আমাকে কোনো চিঠি, এসএমএস কিংবা মোবাইলে কল করা হয়নি। কিন্তু অন্যান্য প্রার্থীদের একাধিক মাধ্যমে জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে আমাকে মেসেজ ও কল করা হয়েছিল। কিন্তু আমি মোবাইল বার বার চেক করেছি। গ্রামীণফোন অফিস থেকে এক মাসের কল ও মেসেজ লিস্টও বের করে দেখেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো কল বা মেসেজ পাইনি। আমি মনে করি আমাকে শিক্ষক নিয়োগে বাদ দেওয়ার জন্যই পূর্ব পরিকল্পা অনুযায়ী অবগত করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাওয়ার পরও আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমি এর প্রতিকার চাই।

জানাগেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বাসিন্দা জোবেদা আক্তারের বাবা জহুর আলী রাজমিস্ত্রি এবং মা গৃহিণী। নিজেদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও সন্তানদের পড়াশোনা করার জন্য তাগিদ দিতেন। সমাজের কটু কথা, অর্থনৈতিক বাধা ও নানা প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে মেধাকে পুঁজি করে ছুটে চলেছেন স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে। ভালো ফলাফলের জন্য স্কুল ও কলেজে পেয়েছেন বোর্ড বৃত্তি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও অনুষদে প্রথম হওয়ায় পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকও। মা-বাবার উৎসাহে জোবেদা আক্তার বেগম রংপুরের রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার শুরু থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার। সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করেন। তবে তার সেই স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি। বর্তমানে তিনি বর্তমানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্টার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ইতিহাস ও প্রত্বত্ত বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে প্রার্থীদের ঠিকানায় গত আগস্ট মাসেই পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নিয়োগ পরীক্ষার দুই দিন আগে প্রার্থীদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএস ও কল করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগকারী প্রার্থীর দেওয়া নম্বরেও অন্যান্য প্রার্থীর মতোই একাধিকবার কল করা হয়েছে তিনি রিসিভ করেননি।

আইসিটি সেলের সহকারী নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার মো. মেরাজ আলী বলেন, আমাদের সফটওয়ার থেকে নিয়োগ পরীক্ষার আগেই প্রার্থীদের নম্বরে এসএমএস করা হয়েছে। আমাদের সবগুলো এসএমএসই ডেলিভারি হয়েছে।