একটি ব্রিজের অভাবে লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে পথচারীরা

2026-04-28 07:18:58

মোঃ আব্দুল আজিজ,হিলি:

সরকার আসে সরকার যায়, কিন্তু ৫০ বছরেও একটি ব্রীজ জুটেনি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের দেউলী ঘাট এলাকার মানুষের কপালে। নিজেদের অর্থ দিয়ে কাঠ দিয়ে তৈরী করেছে একটি ব্রিজ। সেই ব্রীজ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে অত্র এলাকার ৭টি গ্রামের লক্ষাধীক মানুষ। দ্রুত ব্রীজ নির্মান করা হবে বলে আশ্বাস দেন স্থানীয় প্রশাসন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের দেউলী ঘাট নদী। বর্ষা এলেই সিমেন্টের খুঁটির ওপর ভাঙাচোরা বাঁশ-কাঠের সাঁকো পেরিয়ে জীবন বাজি রেখে চলাচল করতে হয়। এই পথ দিয়ে খাইরূল, রৃষিঘাট, চাঁদপাড়া, ভর্নাপাড়া, সাতপাড়া, মগলেশপুর, নলডাঙ্গা, গিলাবাড়ি, আঙ্গারীপাড়াসহ বিভিণ্ন এলাকার লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে। ৫০ বছর ধরে একটি ব্রিজের  জন্য আকুল প্রার্থনা করছেন ৯টি গ্রামের মানুষ। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিরা ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ।

স্থানীয় কয়েখজনের সাথে কথা হয়, তারা জানান, দেউলী ঘাট এলাকাটি কৃষিনির্ভর একটি জনবহুল অঞ্চল ও উপজেলা সদর ওসমানপুরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ। বর্ষা মৌসুমে কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার জন্য প্রায় ৫ কিমি রাস্তা অতিক্রম করতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হয়। অপরদিকে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।

তারা আরো জানান, বর্ষা মৌসুমে শিশু, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও রোগীদের যাতায়াত যেন চরম দুর্ভোগ ও উৎকণ্ঠার আরেক নাম হয়ে দাঁড়ায়। নৌকা কিংবা ভাঙা বাঁশ-কাঠের সাঁকোই এখনো তাদের একমাত্র ভরসা, যা প্রতিদিনই হয়ে উঠছে মৃত্যুফাঁদ। তাদের দাবি, দ্রুত এ ঘাটে একটি ব্রীজ নির্মাণের মাধ্যমে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার। দেউলী ঘাট এলাকায় দ্রুত ব্রীজ নির্মান হলে দূর্ভোগ থেকে রেহায় পাবে লক্ষাধিক মানুষ। দ্রুত বাস্তবায়ন চায় এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে ৩ নম্বর সিংড়া ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাত হোসেন বলেন, বিগত সরকারের আমলে এমপি থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ থেকে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এই অর্থবছরে নতুন করে আবারও প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, আশা করছি খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।

জানতে চাইলে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্রীজ না থাকায় কয়েকটি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। বন্যার সময় যাতায়াতের সমস্যা, শিক্ষার্থীদের স্কুলে পারাপারে সমস্যা, কৃষিপণ্য পারাপারে সমস্যা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করব।