নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় এসে প্রথমে ওখানে কোদাল দিয়ে তিস্তাতে আঘাত করবো। তিস্তাকে সজিব করা হবে। তিস্তা সজিব হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষ সজিব হবে। আমরা কথা রাখতে চাই। আমরা রাজনীতির জন্য কথা বলতে চাই না। উত্তরবঙ্গকে নতুন করে সাজাবো। তাই তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই।
শুক্রবার রাত ৯ টায় নগরীর পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে রংপুর জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আমরা মিথ্যা আশ্বাস দিতে চাই না। আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না, বেকারের কারখানা বানাতে চাই না। বেকারত্ব ঘোছাতে চাই। তাই বেকার ভাতার পরিবর্তে মর্যাদা সম্পন্ন কাজ দিতে চাই। যোগ্যদের যোগ্য মতে কাজের ব্যবস্থা করে দিতে চাই।
তিনি আরো বলেন, আমরা কথা দিলে কথা রাখি। ৫ আগস্টের পর কথা দিয়েছিলাম, আমরা মামলা বানিজ্য করবো না। আমার হাজার হাজার মামলা করি নাই। আমরা চাঁদাবাজি করি নাই। আমরা বলি নাই, তোমার নামটা ভুলে মামলায় ঢুকে গেছে, বের করতে হলে কিছু খাজনা দিতে হবে। আমরা কোন নিরীহ ও নিরাপরাধ মানুষকে জেলের ভাত খাওয়াতে চাই না।
জামায়াতের আমীর বলেন, ধর্ম চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। ধর্ম অন্তরের আবেগের বিষয়। আমরা বাংলাদেশকে ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে চাই। অনেকে বলে কেমন হবে বাংলাদেশ। বলতে চাই, আমরা দেশকে ইরান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান বানাতে চাই না। আমরা গর্বের বাংলাদেশ বানাতে চাই।
তিনি বলেন, রংপুরের মানুষ এতো ভালো যে, নিজেদের দাবীটাও ভালোভাবে বলতে পারে না। তাই বলে আমরা সৎ ভাইয়ের আচরণ করতে পারি না। রংপুর তথা উত্তরাঞ্চল শষ্য ভান্ডার। তাই এগ্রোভিত্তিক কলকারখানা তৈরী করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রের বিপ্লব ঘটাতে হবে। উত্তরবঙ্গ হবে কৃষি বিপ্লবের রাজধানী। এজন্য কৃষি ভিত্তিক ভার্সিটি করা হবে। কলকারখানা করা হবে। বিদেশেী বিনিয়োগ হবে। আমরা চাই না উত্তরবঙ্গ আর বঞ্চিত হউক।
তিনি আরো বলেন, আমরা সরকার পরিচালনায় দক্ষ তা ইতিপূর্বে প্রমাণ দিয়েছি। আমাদের তিন ভাই তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নাই। তারা সততার সাথে ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রংপুর জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় মহানগর জামায়াতের সভাপতি এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমীর ও রংপুর-২ আসনের প্রার্থী এ টিএম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর ৪ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সদস্য ও রংপুর ৩ আসনের প্রার্থী মাহবুবার রহমান বেলাল, রংপুর-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী রায়হান সিরাজী, জেলা জামায়াতের আমীর ও রংপুর-৫ আসনের প্রার্থী গোলাম রব্বানী, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল সিবগতুল্লাহ সিগবাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এসময় ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের রংপুরের ৬ টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের সবার কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়ে দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলি প্রতীকে ভোট চান।