চিলমারীতে তামাক চাষ: সীমিত আবাদেও বাড়ছে শঙ্কা

2026-03-03 23:29:21

চিলমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে এবার সীমিত পরিসরে শুরু হয়েছে তামাক চাষ। পরিমাণে কম হলেও এ চাষ ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। অতিরিক্ত লাভের প্রলোভন, উচ্চমাত্রার রাসায়নিক ব্যবহার এবং মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি-সব মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ৬ বিঘা জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। প্রথম দেখায় সংখ্যাটি ছোট মনে হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের চাষ ছড়িয়ে পড়লে কৃষির গঠনই বদলে যেতে পারে।

সরেজমিনে উপজেলার পুটিমারী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তামাকের জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করছেন মুকুল ইসলাম নামে এক কৃষক। এ সময় তিনি জানান, ৩০ শতক জমিতে প্রথমবার চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে প্রায় ৮ হাজার টাকা। বাজারে মণপ্রতি প্রায় ৮ হাজার টাকা দরে বিক্রির আশায় তিনি এটিকে লাভজনক মনে করছেন। ভবিষ্যতে আবাদ বাড়ানোর ইচ্ছাও রয়েছে তাঁর।

চাষিদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, প্রতি শতকে টিএসপি ৬ কেজি, ইউরিয়া ২ কেজি ও পটাশ ৫ কেজি পর্যন্ত ব্যবহার হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে শক্ত মাত্রার কীটনাশক।

আরেক চাষি শ্রীকান্তের স্ত্রী বলেন, ‘কয়েক মৌসুম ধরে তারা তামাক করছেন। খরচ ও শ্রম বেশি হলেও লাভ তুলনামূলক ভালো।’ কিন্তু প্রশ্ন উঠছে-এই লাভ কি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই?

স্থানীয় কৃষক রহিম জানান, তামাক চাষের পর সেই জমিতে ধান লাগালে আগের মতো ফলন পাওয়া যায় না। তাঁর ভাষায়, ‘মাটি শক্ত হয়ে যায়, যেন ভেতরের রস শুকিয়ে গেছে।’

কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম বলছেন, ‘তামাক মাটির অনুপুষ্টি উপাদান দ্রুত শোষণ করে নেয়। নিয়মিত উচ্চমাত্রার রাসায়নিক প্রয়োগ মাটির স্বাভাবিক অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য নষ্ট করে। ফলে পরবর্তী মৌসুমে উৎপাদন কমে যায়। মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে সময় ও বাড়তি খরচ লাগে।’

পরিবেশবাদীদের মতে, এখনই কার্যকর নীতিমালা ও নজরদারি না থাকলে সীমিত আকারের এই চাষ দ্রুত বিস্তৃত হতে পারে। লাভের অঙ্ক কৃষকদের টানছে, কিন্তু মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির দায় কে নেবে-সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন, ‘তামাক চাষ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এবং তামাকজাত পণ্য মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কৃষি বিভাগ কৃষকদের এ চাষ থেকে নিরুৎসাহিত করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগামী মৌসুমে সংশ্লিষ্ট চাষিদের সঙ্গে কথা বলে বিকল্প ফসলের দিকে নেওয়ার উদ্যোগ থাকবে। প্রয়োজনে কৃষি প্রণোদনার মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হবে।’