গঙ্গাচড়ায় তিস্তা বাঁধে কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

2026-03-04 18:54:45

মাটির বদলে শুধু বালু, বাঁধের নিচে গর্ত, ঝুঁকিতে তীরবর্তী জনপদ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর বাঁধে মাটি ভরাট ও শোভাবর্ধন প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের কাজ, বাঁধের নিচ থেকেই মাটি উত্তোলন এবং প্রস্থ কমিয়ে দেওয়ার কারণে বাঁধের স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

চর ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায়  (ইউএনডিপি)-এর অর্থায়নে প্রায় এক কোটি ৩৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকার কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিন এন্ড কোং। প্রকল্পের আওতায় গঙ্গাচড়া উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার বাঁধে খালাখন্দ মেরামত ও ঘাস লাগানোর কথা রয়েছে।

দরপত্র অনুযায়ী ৭০ শতাংশ মাটি ও ৩০ শতাংশ বালুর মিশ্রণে বাঁধ ভরাট করার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে শুধু বালু দিয়েই কাজ করা হচ্ছে। এতে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, কাজের শুরুতেই তিস্তা নদীতে স্যালো মেশিন বসিয়ে মাটি উত্তোলন শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গঙ্গাচড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযান চালিয়ে নদী থেকে মাটি তোলার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ,  স্কাভেটর মেশিন দিয়ে বাঁধের পাদদেশ থেকেই মাটি কেটে উপরে ভরাট করা হচ্ছে। এতে বাঁধের নিচে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্ত বাঁধ ধসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর।

দরপত্রে বাঁধের প্রস্থ ১৪ ফুট রাখার কথা থাকলেও অনেক স্থানে তা কমিয়ে ১০ ফুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয়রা। এছাড়া কাজের কোনো সাইনবোর্ড না থাকায় প্রকল্পের ব্যয়, মেয়াদ ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য থেকেও বঞ্চিত সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, বাঁধের নিচ থেকেই মাটি কেটে উপরে দেওয়া হচ্ছে। নিচে বড় বড় গর্ত হচ্ছে। শুধু বালু দিয়ে কাজ করায় বাঁধ কতদিন টিকবে তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।

আরেক বাসিন্দা আব্দুল কাদেরের অভিযোগ, ১৪ ফিট রাস্তা  অনেক জায়গায় ১০ ফিট করা হয়েছে। চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন আছে।

স্থানীয় গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, বর্ষায় পানি বাড়লে বাঁধ ভেঙে গেলে আমাদের ঘরবাড়ি ডুবে যাবে। এখনই ঠিকমতো কাজ না হলে পরে বড় বিপদ হবে।

এ বিষয়ে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, চর ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় গঙ্গাচড়া উপজেলায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার বাঁধে খালাখন্দ মেরামত ও ঘাস লাগানোর কাজ চলছে। অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।