হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) :
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় নলকূপের ভিতরে চেতনা নাষক ট্যাবলেট দিয়ে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে বাড়ি চুরির ঘটনায় একজনকে আটক করে এলাকাবাসি। এ ঘটনায় ছয়জন অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের ঘগোয়া নালারপাড় গ্রামের নেপাল চন্দ্র রায়ের বাড়িতে। আটককৃত ফরহাদ মিয়া রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার বুজরুক কমরপুর বালারহাট গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে। অসুস্থরা হলেন, নেপাল চন্দ্র রায়, ইন্দুবালা, মিনতি রানী, নিরুপমা রায়, তিথি রানী, গণেষ চন্দ্র রায় ও দলায় চন্দ্র রায়।
থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দিনের বেলায় ছদ্মবেশে ভিক্ষুক সেজে নেপাল চন্দ্র রায়ের বাড়িতে প্রবেশ করে নলকূপের ভিতরে সুকৌশুলে চেতনা নাষক ট্যাবলেট ঢুকে দেয়। ওই নলকূপের পানি দিয়ে নাওয়া খাওয়া সেরে নেপালসহ পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিনের ন্যায় ঘুমিয়ে পড়ে। গভীর রাতে নেপালের বাড়িতে পাঁচজন চুরি করতে এলে প্রতিবেশি জনৈক এক ব্যক্তি রমজানের সেহেরি খেতে উঠে বিষয়টি টের পায়। এরপর চিৎকার করলে স্থানীয়রা ঘুম থেকে জেগে উঠে চোরকে ধাওয়া করে। চারজন পালিয়ে গেলেও ফরহাদ মিয়াকে আটক করতে সক্ষম হন এলাকাবাসি। এ সময় নেপালের পরিবারের সদস্যরা অচেতন অবস্থায় ঘরে মধ্যে ছিলেন। আটককৃত ফরহাদের স্বীকার উক্তি মোতাবেক বিষয়টি জানতে পারেন এলাকাবাসি। পরে স্থানীয়রা অসুস্থ নেপালসহ পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। খরব পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আটক ফরহাদকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।
থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম বলেন, এটি বাড়ি চুরি একটি নতুন কৌশল। এ ঘটনায় নেপাল চন্দ্র রায় বাদী হয়ে চারজন নামিও ও একজন অজ্ঞতানামা উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত ফরহাদকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।