হাবিবুল হাসান হাবিব, ডিমলা (নীলফামারী):
নীলফামারীর ডিমলায় ২৫ মার্চ গণহত্যা ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্রস্ততিমুলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা উপজেলা পরিষদ হলরুমে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরানুজ্জামান এর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবীর, উপজেলা কৃষি অফিসার মীর হাসান আল বান্না, সমবায় কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা, সমবায় কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা প্রভাষক রইছুল আলম চৌধুরী, ডিমলা উপজেলা জামায়াতে আমীর অধ্যাপক মাওলানা মজিবুর রহমান,উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী প্রধান, এনসিপির নীলফামারী জেলার যুগ্ম সদস্য সচিব, রাশেদুজ্জামান রাশেদ, ডিমলা বিএমআই কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের, ডিমলা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু তালেব, ডিমলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর টিম লিডার নুর মোহাম্মদসহ উপজেলার সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী এবং স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।
সভায় দিবস দুটি যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যতার সঙ্গে পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এসময় বক্তারা বলেন- ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে এক শোকাবহ ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায় যা ইতিহাসে অপারেশন সার্চলাইট নামে পরিচিত। সার্চলাইটে অসংখ্য নিরস্ত্র মানুষ শহীদ হন এবং অনেক স্থাপনা ধ্বংস করে দেয়া হয়। এই নৃশংস হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়েই মূলত শুরু হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ যা পরবর্তীতে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বিজয়ে পরিণত হয়।
সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরানুজ্জামান জানান, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে প্রতীকী ব্ল্যাকআউট পালন, শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা, গণহত্যায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও প্রার্থনা আয়োজন করা হবে। দিবসটি ঘিরে গণহত্যার ইতিহাস তুলে ধরতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরত প্রর্শন, শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দিবস দুটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও শৃঙ্খলার সাথে পালনে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন। সভা শেষে গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।