মনিরুজ্জামান লেবু, নীলফামারী:
নীলফামারীর জলঢাকায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের দেওয়া বিশেষ ভিজিএফ (VGF) কর্মসূচির চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে এরই প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুবিধাভোগীরা।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে ১০নং কাঁঠালী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে উত্তেজিত জনতা ওই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনকে তার নিজ কক্ষে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং বঞ্চিতদের চাল দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সুবিধাভোগীদের দাবি, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কার্ডধারী প্রত্যেকের ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। অন্যান্য পরিষদে প্রতি বস্তা চাল তিনজনের মধ্যে বন্টন করা হলেও, কাঁঠালী ইউনিয়নে জনপ্রতি মাত্র ৭ থেকে ৮ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।
সুবিধাভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সব জায়গায় নিয়ম মেনে চাল দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু এখানে কেন আমাদের ওজনে কম দিয়ে বঞ্চিত করা হচ্ছে? আমরা আমাদের পাওনা পুরো ১০ কেজি চাল চাই।
মানববন্ধন চলাকালে দুর্নীতিবাজ জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারের অপসারণ দাবি করে বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের আহ্বায়ক নুরনবী, তাঁতী দলের সভাপতি জেনারুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মোকছেদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মানিকুজ্জামান মানিক, জামায়াত নেতা মাওলানা রাশেদুজ্জামান রাশেদ ও তহিদুল ইসলাম সহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, দরিদ্র মানুষের হকের চাল যারা আত্মসাৎ করছে, তাদের দ্রুত পদত্যাগ করতে হবে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে কাঁঠালী ইউনিয়ন পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, চাল বিতরণে কিছু ভুলভ্রান্তি হতে পারে। তিনি বলেন, যেসব সুবিধাভোগী এখনো চাল পাননি, গোডাউনে চাল মজুত আছে, তারা অবশ্যই তাদের প্রাপ্য চাল বুঝে পাবেন।
তবে সরকারি গুদাম থেকে চাল উত্তোলনের পর কেন বিতরণে এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি। বর্তমানে এলাকায় এ নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ও সমালোচনা বিরাজ করছে।