ঈদের ছুটি শেষে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি আর অসহায়ত্বের চিত্র যাত্রীদের

2026-03-29 02:28:15

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুর বিভাগের প্রবেশদ্বার মডার্ন মোড় এলাকায় ঈদের ছুটি শেষে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি আর অসহায়ত্বের চিত্র। রংপুর,লালমনিহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী,দিনাজপুর,ঠাকুরগাঁ ও পঞ্চগড় জেলার চলচলকারী রাজধানী ঢাকা-মুখী শত শত যানবাহন এই মর্ডাণ মোড় হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছুটে চলে।  এই মোড়ে হাজারো মানুষের ঢল নামলেও পর্যাপ্ত পরিবহন না থাকায় সড়কে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ যানজট, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে যাত্রীদের দুর্ভোগ।

শনিবার সকাল থেকেই মডার্ন মোড়ে শত শত বাস দীর্ঘ লাইনে আটকে থাকতে দেখা যায়। যানজটের কারণে গাড়িগুলো ধীরগতিতে চলাচল করছে, কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবির হয়ে আছে। এতে করে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো তো দূরের কথা, বাসেই আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের।

অন্যদিকে, রাস্তার পাশে পরিবার-পরিজন নিয়ে অপেক্ষা করছেন হাজার হাজার যাত্রী। অনেকেই শিশু ও বৃদ্ধ সদস্যদের নিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। কেউ বসার জায়গা পাচ্ছেন না, কেউবা রোদে-ধুলায় দাঁড়িয়ে অনিশ্চয়তার প্রহর গুনছেন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সংকটকে পুঁজি করে কিছু অসাধু পরিবহন শ্রমিক ও সুপারভাইজার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীরা জানান, যেখানে সাধারণ সময়ে ভাড়া ৬০০ টাকা, সেখানে এখন ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। এত উচ্চ ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশেই অপেক্ষা করছে, কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেই আশায়। বেশি ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মডার্ণ মোড় এলাকা অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

ঢাকা থেকে রংপুরে ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে এসেছিলেন একটি মাল্টি ন্যাশনাল কম্পানীর কর্মকর্তা আফতাব হোসেন ।  তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদের আনন্দ শেষে এখন যেন কষ্টই আমাদের সঙ্গী। অতিরিক্ত ভাড়া  আদায় করছে বাসের মালিকেরা। অনেকেরে বেশি দাম দিয়ে টিকিট কেনার সাধ্য নেই। আবার এখানে থেকেও উপায় নেই।

এদিকে, যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, দ্রুত যানজট নিরসনের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

মানবিক দিক থেকে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ঈদের আনন্দ শেষে বাড়ি ফেরা মানুষগুলোর জন্য এই দুর্ভোগ যেন নতুন এক কষ্টের গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।