সুন্দরগঞ্জ পৌর সড়কে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে পথচারী ও যানবাহন

2026-03-30 22:57:34

হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা):

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কাঁঠালতলী মোড় থেকে পল্লী বিদ্যুৎ স্টেশন পর্যন্ত অংশে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক জলাবদ্ধতা। এতে হাঁটু সমান পানিতে ডুবে যাচ্ছে সড়ক, আর চরম দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারীসহ স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশে পানি জমে থাকলেও বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং নালা-ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক পথচারী জুতা হাতে নিয়ে পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করছেন। শিক্ষার্থীদের অনেকেই ভিজে কাপড় ও জুতা নিয়েই স্কুলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের জন্য ভীষণ কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মহিলা ডিগ্রি কলেজ এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, “পল্লী বিদ্যুৎ স্টেশন সংলগ্ন স্থানে সব সময়ই পানি জমে থাকে। বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি হয়ে যায়। ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় পানি নামতে পারে না। বিষয়টি বহুবার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

এদিকে সুন্দরগঞ্জ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের কর্তৃপক্ষ মো. ছামিউল ইসলাম জানান, “স্কুলের সামনে এই অবস্থার কারণে প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছে। তাদের প্যান্ট ও জুতা ভিজে যাচ্ছে, এতে অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন।”

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সময় পার হলেও নাগরিক সেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। জলাবদ্ধতার মতো মৌলিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ পৌর প্রশাসক ইফফাত জাহান তুলি বলেন, “পৌরসভায় ড্রেন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এ কারণে অনেক ড্রেনের মুখ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে, ফলে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সড়কের ড্রেনটি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্মিত। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।