সুন্দরগঞ্জে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ

2026-04-01 20:19:19

হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা):

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক যুবককে অপহরণ, মারধর, গৃহে হামলা, শ্লীলতাহানি ও লুটপাটের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী মোছাঃ সুফিয়া বেগম।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, সুফিয়া বেগমের মেয়ে মোছাঃ ইয়াছমিন আক্তারের সঙ্গে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার ঝাপা পাড়া গ্রামের মোঃ রিয়াদ হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পারিবারিক সম্মতির ভিত্তিতে গত ২৭ মার্চ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে রিয়াদ হোসেন মেয়েটিকে দেখতে সুফিয়া বেগমের বাড়িতে আসেন।

অভিযোগে বলা হয়, ওইদিন রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে প্রধান আসামি মোঃ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে একদল লোক সংঘবদ্ধভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা রিয়াদ হোসেনকে টানা-হেঁচড়া করে মারধর করতে করতে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে সুফিয়া বেগম, তার স্বামী মোঃ জয়নাল আবেদীন, মেয়ে ইয়াছমিন আক্তার ও জেসমিন বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করা হয়।

এছাড়া হামলাকারীরা ঘরে থাকা গরু বিক্রির নগদ প্রায় ৪ লাখ টাকা লুট করে নেয় এবং সুফিয়া বেগমের গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা। এজাহারে আরও বলা হয়, হামলার সময় ইয়াছমিন আক্তার ও জেসমিন বেগমের শ্লীলতাহানি ঘটানো হয় এবং ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে জানা যায়, অপহৃত রিয়াদ হোসেনকে জিম্মি করে তার পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৪১ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসামি মোঃ আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, ঘটনার রাতে এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। তার দাবি, কাউকে অপহরণ বা মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি; বরং ছেলেটিকে নিরাপদে গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ইকবাল পাশা জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।