নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাইমিন ইসলাম মারুফকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে তার অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় অংশ নিতে উপজেলা পরিষদে যান চেয়ারম্যান মারুফ। এ সময় তার উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনকারীরা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন এবং একপর্যায়ে তাকে কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান মারুফের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তারা দ্রুত তার গ্রেপ্তার ও পদ থেকে অপসারণের দাবি জানান। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে তাকে ছেড়ে দেন।
এ সময় আন্দোলনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে চেয়ারম্যানের প্রভাবে তাদের অনেক নেতাকর্মী হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে তাকে দায়িত্ব থেকে সরানো হলেও পরে অনিয়মের মাধ্যমে পুনর্বহাল করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। আগামী রোববারের মধ্যে তাকে অপসারণ না করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির স্থানীয় এক নেতা বলেন, “যেখানে বিভিন্ন স্থানে বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেখানে একজন চেয়ারম্যান কীভাবে বহাল থাকেন—এ প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই।”
অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সংগঠক বলেন, “আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে পুনর্বহাল করা হয়েছে, যা প্রশ্নবিদ্ধ।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, চেয়ারম্যানকে অপসারণ বা পুনর্বহালের ক্ষমতা স্থানীয় প্রশাসনের নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান মারুফের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ মার্চ জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে পুনর্বহাল করা হয়। প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান মোহাইমিন ইসলাম মারুফ বলেন, “আমি বর্তমানে ভিন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত এবং আমার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোতে আদালত থেকে জামিন নিয়েছি। আইনগত প্রক্রিয়ায় আমি দায়িত্বে ফিরেছি। তবে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক।”