প্রধান শিক্ষকের গাফিলতি, এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারল না শিক্ষার্থী

2026-04-23 03:58:18

মোঃ বুলবুল ইসলাম, খানসামা (দিনাজপুর):  

"দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার চকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম লিপুর অবহেলা ও গাফিলতির কারণে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি নাইম ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী। ফরম ফিলাপ ও কেন্দ্র ফি এর টাকা পরিশোধ করার পরও তাকে এডমিট কার্ড দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার জন্য চকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম লিপু পরীক্ষার্থী নাইম ইসলামের কাছে ফরম ফিলাপ ও কেন্দ্র ফি বাবদ ৩০০০ টাকা নিজ হাতে গ্রহণ করলেও তাকে এডমিট কার্ড দেওয়া হয়নি। পরে ঐ পরীক্ষার্থী প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখার কথা বললে পরে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করে টাকা ফেরত দিতে চান।

ভুক্তভোগী নাইম ইসলাম জানান, আমি পাকেরহাটে অবস্থিত ট্যালেন্ট সার্চ রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি হতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছি। আমাদের নাম রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছে চকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। টেস্ট পরীক্ষার পর ফরম ফিলাপের জন্য ট্যালেন্ট সার্চ রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে গেলে আমাকে সেই চকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের হাতে টাকা দিতে আসতে বলে। আমি সেই মোতাবেক প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম লিপু স্যারের হাতে টাকা দিয়ে আসি। কিন্তু পরীক্ষার দু'দিন আগে স্কুলে যেয়ে জানতে পারি আমার এডমিট কার্ড আসে নি। এমনকি আমার ফরম ফিলাপও নাকি করা হয় নি। প্রধান শিক্ষকের অবহেলা ও গাফিলতির কারনে আমার পরীক্ষার প্রস্তুতির পড়াশোনা ও স্বপ্ন ভেঙে গেছে।

ট্যালেন্ট সার্চ রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের পরিচালক সাইদ ইসলাম জানান, নাইম ইসলাম দশম শ্রেণিতে পড়াকালীন মাথার সমস্যার কারনে স্কুল থেকে বের হয়ে যান। পরে ফরম পূরণের জন্য সে ও তার অভিভাবক স্কুলে আসলে তাকে রেজিষ্ট্রেশনকৃত চকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। এডমিট কার্ড পাওয়া না পাওয়ার বিষয়ে সে কিংবা তার পরিবার আমাদের এখনো কিছু জানায় নি।

চকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম লিপু বলেন, নাইম ইসলামের টাকা নেওয়ার বিষয়টি তাঁর মাথায় ছিল না। পরে যখন জানতে পারে তার ফরম পূরণ হয় নি তখন তার পরিবারকে ডেকে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান সরকার জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক আগে যদি আমার সাথে যোগাযোগ করত তাহলে হয়তো একটা ব্যবস্থা করা যেত। এ ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।