রৌমারীর ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশন পুলিশের সামনে পেট্রোল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ

2026-04-29 21:56:34

রৌমালী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের রৌমারী ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনে পুলিশের সামনে পেট্রোল জেরিকেন ভর্তি করে কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

কালোবাজারে পেট্রোল বিক্রির ১৬ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) আনুমানিক ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশন পরিচালক আবুল হাসেম ও পুলিশের সামনে পাম্পের কর্মচারীরা কয়েকটি জেরিকেনে পেট্রোল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ভর্তি করছেন। এসময় কে বা কারা পেট্রোল ভর্তির ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

জানাগেছে, গত ১০ এপ্রিল থেকে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ ছিল। পরে তেল নিয়ে আমাদের প্রতিদিনসহ  একাধিক সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে প্রশাসন নড়েচরে বসে। পরে বুধবার (২৯ এপ্রিল) পেট্রোল-ডিজেল বিক্রি শুরু করেন।

জামায়াতের আবু সাইদ ইউনিটের উপজেলা সভাপতি মাহাবুব আলম কালোবাজারে তেল বিক্রির প্রতিবাদ করলে প্রশাসনের উপস্থিতিতে পাম্পের ম্যানেজার শাহাজামালসহ অন্যরা তাকে লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ইউএনও, এসিল্যান্ড ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের আবু সাইদ ইউনিটের উপজেলা সভাপতি মাহাবুব আলম অভিযোগ করে জানান, পাম্প থেকে প্রতিনিয়ত কালোবাজারে পেট্রোল বিক্রি হয়। অথচ সাধারণ মানুষ পায় না। এর প্রতিবাদ কেউ করলেই তাকে লাঞ্ছিত ও হেনস্থা হতে হয়। তিনি আরও বলেন, পাম্প কর্তৃপক্ষ, ট্যাগ অফিসার ও প্রশাসন সবাই এর কারসাজির সঙ্গে জড়িত।

কালোবাজারে তেল বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে রৌমারী ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশন পরিচালক মো. আবুল হাসেমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল কলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে এ বিষয়ে একটি বার্তা পাঠালেও কোন উত্তর দেননি।

রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী বলেন, পুলিশের সামনে এমন ঘটনা ঘটতে পারে না। তবে বিষয়টি ভিডিও দেখে খোঁজখবর নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কালোবাজারে তেল বিক্রির সাথে পুলিশ কখনও জড়িত নয়।

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, এমন ঘটনার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কালোবাজারে তেল বিক্রির ব্যাপারে প্রশাসন কোনও ভাবে জড়িত নয়।