কিশোরগঞ্জে ডিলার নিয়োগে অনিশ্চয়তা, হয়রানীর স্বীকার খাদ্যবান্ধব কর্মসুচির ২২সহস্রাধিক সুবিধাভোগী

2026-04-30 17:32:20

বিপিএম জয়,কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী):

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসুচীর (১৫ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণের) ডিলার নিয়োগে অশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট গনঅভ্যুথানের পর আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের ফলে ওই বছরের ১৪ই অক্টোবর ৯ টি ইউনিয়নের ৫৩ জন ডিলারের ডিলারশীপ বাতিল করা হয়।

পরবর্তীতে সাময়িকভাবে ৯ টি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খাদ্যবান্ধব কর্মসুচীর চাল বিতরণ অব্যাহত রাখলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা জঠিলতার কারনে নতুন করে ডিলার নিয়োগ না হওয়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসুচীর প্রায় ২২ হাজার ৫শ সুবিধাভোগী চাল উত্তোলন করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসুচীর চাল বিতরণ কর্মসুচী সচল রাখতে নতুন করে ডিলার নিয়োগের জন্য গত ২০২৫ সালের ১৭ই জুন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ৯ টি ইউনিয়ন থেকে ৫৩টি ডিলারশীপের বিপরীতে ২৫৪জন প্রাথী আবেদন করে। কিন্তু ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১০মাস পেড়িয়ে গেলেও নতুন করে ডিলার নিয়োগ না হওয়ায় খাদ্যবান্ধন কর্মসূচীর চাল বিতরণ নিয়ে শঙ্খা তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে আরো জানা গেছে, ৯ টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ২২ হাজার ৫শ সুবিধাভোগী বিপরীতে মাসে ৬৮হাজার ৮৫০ মেট্রিকটন চাল বিতরণ করা হয়। প্রতিমাসে সরকারী এসব চাল বিতরণের বিপরীতে কমিশন আসে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা। প্রতি বছর ওই কর্মসুচী থেকে সরকার ৬মাস চাল দিলে কমিশন দাড়াঁয় ৮০ লাখ ১৬ হাজার টাকা। যা আগে ৫৩ জন ডিলার পেত। কিন্তু বর্তমানে কমিশনের টাকা চেয়ারম্যানরা পাচ্ছে। নতুন ডিলার নিয়োগে এটাও বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মাগুড়া ইউনিয়নে সিঙ্গেরগাড়ী গ্রামের সুবিধাভোগী আফছার আলী জানান, আগে সিঙ্গেরগাড়ী বাজারে ডিলার চাল বিতরণ করত। আমরা যখন খুসি তখন গিয়ে চাল নিয়ে আসতাম। কিন্তু বর্তমানে ডিলার না থাকার কারনে মাগুড়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দিন নষ্ট করে চাল নিয়ে আসতে হয়। ফলে একদিকে ভ্যানভাড়া বেশি লাগে অপর দিকে দিনের পারিশ্রমিক বাবদ ৬শ টাকা হাজিরা নষ্ট হয়ে যায়।

গাড়াগ্রাম বাবুর বাজারের কার্ডধারী শ্রীমতি অঞ্জনা রানী বলেন, আগে ডিলার আমাদের বাড়ির পাশেই ছিল। কিন্তু এখন কাজ-কাম বাদ দিয়ে গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বাড়ির গোডাউন থেকে চাল আনতে হয়। বর্তমান সরকারি দর হিসাবে ৩০ কেজি চাল ৪৫০টাকায় নিতে হয়। কিন্তু কমপক্ষে ৬ কিলোমিটার পথ পারি দিয়ে চাল আনার ভ্যানভাড়া ও দিনের পারিশ্রমিক মিলে ৩০ কেজি চালের দাম পরে ১১শ থেকে ১২শ টাকা। তাই অনেক সুবিধাভোগী চাল নিতে যায়না।

অনুরূপভাবে বড়ভিটা, পুটিমারী, কিশোরগঞ্জ সদরের সুবিধাভোগী, আমেনা, শশিবালা, আমিনুর রহমান, আবেদা খাতুন  বলেন, শুনেছি আগের ডিলারগন আওয়ামীলীগ ও জার্তীয়পার্টির নেতাকর্মীরা ছিল। তাই তারা বাদ গেছে, কিন্তু বর্তমান যে চেয়ারম্যারা চাল দিচ্ছে, তাঁদের মধ্যে, মাগুড়া,পুটিমারী,কিশোরগঞ্জ সদর বাহাগিলি,বড়ভিটা  লাঙ্গল মার্কার চেয়ারম্যান এবং চাঁদখানা,রণচন্ডি,গাড়াগ্রাম আওয়ামীলীগের। ঘুরে ফিরে একই মাঝখান থেকে আমরা অসহায় দরিদ্ররা হয়রানী শিকার হচ্ছি।

খাদ্য বান্ধব কর্মসুচীর ডিলার নিয়োগে বিলম্ব হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ডিলার নিয়োগের জন্য যে ২৫৪টি আবেদন  জমা পড়েছে তাঁদের মধ্যে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের দোসররা আবেদন করেছে। আমরা আবেদনকারীদের রাজনৈতিক পরিচয়সহ তদন্তের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি কিন্তু তারা সেটা করছেনা। তাঁদের কারনেই ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে আছে।

উপজেলা জামায়াত আমির আব্দুর রশিদ শাহ বলেন, আমার কাছে খাদ্য বান্ধবের চাল বিতরণের অনেক অভিযোগ এসেছে। এর মধ্যে ওজনে চাল কম দেয়া, বস্তা খুলে চাল বিতরণ করা, কার্ডধারীদের অনেককে চাল না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনসহ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে ডিলার নিয়োগ দিতে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন, ডিলার নিয়োগের জন্য যারা আবেদন করেছেন তাঁদের আবেদন সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই বাছাই সম্পন্ন শেষ করে উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সভাপতির নিকট জমা করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি ইচ্ছে করলেই একদিনের ব্যবধানে ডিলার নিয়োগ দিতে পারবেন। প্রশাসনিক কোন দুর্বলতা রয়েছে কিনা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমাদের কোন দুর্বলতা নেই। এর বেশি তিনি বলতে চাননি।

উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান বলেন, আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। খাদ্যবান্ধব কর্মসুচীর ডিলার নিয়োগের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যাবস্থা গ্রহন করব।