নিঃস্ব ব্যবসায়ী, কান্না, ভস্ম ও ধোঁয়ায় ছাওয়া বঙ্গবাজার

আমাদের প্রতিদিন
2024-06-18 15:02:08

ঢাকা অফিস:

‘আমার কিছু অয় ন, কিন্তু আমার তো কিছু নাই আর’— মোবাইল ফোনের অপর প্রান্তে থাকা কেউ একজনকে এভাবে নিজের অবস্থা বোঝাচ্ছিলেন বঙ্গবাজারের এক ব্যবসায়ী। প্রায় তিন থেকে চার মিনিটের কথোপকথনে ব্যবসায়ীর গলায় শোনা যায় ভাঙা আর্তনাদ; তাদের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। দোকান ভরা ছাই। ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা মানুষটি ব্যবসায়ীর শারিরীক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কিছু একটা জিজ্ঞেস করছিলেন। কিন্তু ব্যবসায়ীর বারবার বলা বাক্য— ‘আঁর কিছু অয় ন; আঁর কিছু নাই আর।’

মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৬টার দিকে বঙ্গবাজার মার্কেটে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ৫০টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টার মাথায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন সব ছাই করেই নিভেছে।

মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের প্রিয় মার্কেট বঙ্গবাজারের অস্তিত্ব বলতে এখন আছে কেবল ভস্ম। পুড়ে গেছে বঙ্গবাজারের মহানগর শপিং কমপ্লেক্স, আদর্শ, গুলিস্তান মার্কেট, বরিশাল প্লাজাসহ বেশ কয়েকটি মার্কেট। অনেক দূর থেকে এখনও দেখা মিলছে ধোয়ার। আশেপাশের এলাকা জুড়ে ব্যবসায়ীদের কান্না ভারি করে তুলেছে বাতাস।

ঈদকে সামনে রেখে বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীদের থাকে বাড়তি তোড়জোড়। ঈদের মৌসুমের বেচাকেনা ব্যবসায়ীদের একবছরের জীবন-জীবিকা থেকে মূলধন গঠন— সবকিছুর সাথেই ওতোপ্রোতভাবে জড়িত থাকে। ঈদের বেচাকেনার কেবল শুরু শুরু রব উঠলো যখন— এমন সময়ে আগুন লাগার ঘটনায় যেন মুখের ভাষাটুকুও হারিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। নিঃস্ব ব্যবসায়ী, কান্না, ভস্ম ও ধোঁয়ায় ছাওয়া বঙ্গবাজার

ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবাজারের প্রায় সব দোকানই পুড়ে ভস্ম হয়ে গেছে। আশেপাশের এলাকাজুড়ে এখন ধোয়া আর ব্যবসায়ীদের আর্তনাদের সুর। বঙ্গবাজার থেকে হাইকোর্টগামী সড়ক, আনন্দবাজার হয়ে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিট— আশেপাশের পুরো এলাকার ফুটপাতজুড়ে আছে ব্যবসায়ীদের শেষ সম্বল। আগুন লাগার পর থেকে কোনোভাবে যা পেরেছেন, বের করে এনেছেন ব্যবসায়ীরা। কারও তিনটা দোকান, কারও একটি; সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ ব্যবসায়ীই কিছুই রক্ষা করতে পারেননি। খবর পেয়ে বাসা থেকে ছুটে এসে নিজের তিনটি শাড়ির দোকানের দু’টি থেকে অল্প কিছু মালামাল নিয়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন আনোয়ারুল ইসলাম। বাকি একটি দোকানে প্রবেশই করতে পারেননি তিনি।

সরকারি কর্মচারি হাসপাতালের উল্টোপাশের ফুটপাতে শেষ সম্বলটুকু নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় আনোয়ারকে। তার আশেপাশের কয়েকজন লোকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনটি দোকানের সিংহভাগ মালামালই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

এদিকে, বঙ্গবাজারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়ন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‍্যাব। শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটসংলগ্ন মোড়ে বিজিবি-সেনাবাহিনীর কয়েকটি বড় গাড়ি অবস্থান করতে দেখা যায়।

বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেখানে ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, র‍্যাবের ঢাকার সব ব্যাটালিয়ন ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ১৮টি টহল দল, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে।