৭ শ্রাবণ, ১৪৩১ - ২২ জুলাই, ২০২৪ - 22 July, 2024
amader protidin

বাঙালির ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করতে পিঠা উৎসব

আমাদের প্রতিদিন
1 year ago
849


বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক:

পিঠা বাংলার গ্রামীণ জনপদে অনন্য আমেজের নাম। বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুস্বাদু-মুখরোচক পিঠা মানেই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। শীত এলেই ঘরে ঘরে শুরু হয় পিঠা উৎসব। আধুনিক নগর সংস্কৃতির প্রভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী রকমারি পিঠা। তাই বাঙালির ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উদ্যোগে প্রথমবারের মতো পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়।

২৯টি পিঠার স্টলে সারাদেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক পিঠা যেমন- ভাপা, হ্দয় হরণ, মেমো, কটকটি, চকলেট, গাজরের লাড্ডু, কানাইপুর, বৌ, বরফি, দুধ চিতই, মিস্টি, কামরাঙ্গা, কুশলি, চালের কলা পাতা, ডিম সুন্দরী, ঋিনুক,ম্যাজিক, পুলি, মুগ পাকাল, নক্ষত্র গুড়গুড়ি,পাকন, নোনতা, দুধ গোকুল, আতিক্কা, আপেল সন্দেশ, শাহি টুকরা, ডিম সুন্দরী, ফিরনী, বৃত্তীয়, মাসরুম, সিজি,পুরভরা, ঝিলমিল, মতিচূর, ফিরিজ পিঠা, সিরিজ, লবঙ্গ লতিকা, শঙ্ক চুশি, গোলাপ জামন, রসায়ন রঙ্গিলা প্যান কেক, নুসাস, নকশি, নসাপটা, বিস্কুট, ফুসকা, চিকেন পুলি, সেমাই, ঝাল পুলি, নোনাস, পানতোয়া, গোলাপ কিমা, জামাই পিঠা, বিন্নী চালের পিঠা, ডিম পিঠা, চিকেন পুলি, গুড়ের সন্দেশ, চকলেট পিঠা, কুলশি পিঠা, মিষ্টি পোয়া সহ আরো হরেক রকম পিঠা পাওয়া যায়।

পিঠা উৎসবে আসা ম্যানেজমেনট বিভাগের নিশাত বলেন, এ শীতে মায়ের হাতের পিঠা খুব মিস করছি। ক্যাম্পাসে বসে শীতের পিঠা উৎসবের আয়োজন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ।

পিঠা উৎসবে আসা ইংরেজী বিভাগের তামিম নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধারণ এবং সম্প্রীতির মেলবন্ধনকে অটুক রাখতে আমাদের এ আয়োজন। আমরা আশা করছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতি বছর এ আয়োজন অব্যাহত রাখবে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. সরিফা সালোয়া ডিনা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মজিব উদ্দিন আহমদ বলেন, পিঠা উৎসব আমাদের আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি। এ ধরনের আয়োজন পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।

এসময় আমন্ত্রিত অতিথিরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। শীতকালীন পিঠা উৎসবে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের অন্তত ৩০ টি স্টল বসানো হয়। এ সকল স্টলে রকমারি পিঠার পসরা সাজিয়ে রাখা হয়। এসকল পিঠার মধ্যে পাটিসাপটা, পুলি, পাতা পিঠা, নারকেল পিঠা, ভাপা পিঠা, দুধপুলি, মালপোয়া, ফুল পিঠা, জামাই পিঠা, বাঁধাকপির পাকোড়া, ঝিনুক পিঠা, রসপুলি উল্লেখযোগ্য।

উদ্বোধনের পর থেকেই প্রত্যেকটি স্টলেই ছিল শিক্ষার্থীদের ভিড়। দেশীয় সংস্কৃতিকে ধারণ করা এই পিঠা উৎসবে এসে তারা বিভিন্ন স্বাদের পিঠা উপভোগ করেন। পিঠার স্বাদ উপভোগের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজনও করা হয়। ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাকিউর রহমানের সঞ্চালনায় পিঠা উৎসব উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক অনুষদের ডিন ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ শরিফুল ইসলাম,  শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ,  রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলমগীর চৌধুরী,  প্রক্টর গোলাম রব্বানি, বহিরাঙ্গন কার্যক্রম দপ্তরের পরিচালক সাব্বীর আহমেদ চৌধুরী, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, বেরোবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান শামীম শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন। এসময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়