তিন সন্তানের জননী রনজিনাকে ঈদ উপহার দিলেন রাজারহাট ইউএনও
দৈনিক আমাদের প্রতিদিন-এ সংবাদ প্রকাশের পর
প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম):
দৈনিক আমাদের প্রতিদিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর কুড়িগ্রামের রাজারহাটে একসঙ্গে তিন কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়া দরিদ্র মা রনজিনা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। দরিদ্র ওই পরিবারটিকে ঈদ উপহার দিয়েছেন রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল ইমরান।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মহিধর খন্ডক্ষেত্র চওড়াহাট মাজারের পাড় গ্রামের দিনমজুর মিনহাজুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তিনি এই সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় তিন নবজাতক ও তাদের মায়ের খোঁজখবর নেন ইউএনও।
উপহার হিসেবে পরিবারটির হাতে ১০টি বায়োমিল-১, আধা মন চাল এবং তিন নবজাতকের জন্য ঈদের জামা-কাপড় তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, প্রেসক্লাব রাজারহাটের সাধারণ সম্পাদক প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুর রহমান শিমু, ইউপি সদস্য মো. মোশারফ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ “রাজারহাটে দিনমজুরের ঘরে একসঙ্গে তিন কন্যা সন্তানের জন্ম, দুধের অভাব ও দারিদ্র্যে খাবার জোগাড়ই বড় চ্যালেঞ্জ”শীর্ষক একটি সংবাদ দৈনিক আমাদের প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সংবাদটি ইউএনও মো. আল ইমরানের নজরে এলে তিনি দ্রুত ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন।
জানা গেছে, উপজেলার দরিদ্র দিনমজুর মিনহাজুল ইসলামের স্ত্রী রনজিনা বেগম (২৭) গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর প্রথমে বাড়িতেই একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। পরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত কুড়িগ্রাম খাঁন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে গাইনি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে আরও দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
নবজাতকদের মা রনজিনা বেগম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তার বিয়ে হয়েছে। তাদের বড় কন্যার বয়স বর্তমানে ৮ বছর। স্বামী মিনহাজুল ইসলাম দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। শ্বশুর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারের দায়িত্বও তাদের ওপরই।
তিনি আরও বলেন, “এখন আমাদের পরিবারে চারটি কন্যা সন্তানসহ মোট ছয়জন সদস্য। স্বামীর সামান্য আয়ে এত বড় সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নবজাতক তিনটি শিশুর খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি বা মানবিক সহায়তা পেলে বাচ্চাগুলোর কষ্ট কিছুটা কমতো।”
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল ইমরান বলেন, “এ ধরনের অসহায় মা ও নবজাতক শিশুদের পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসন সবসময় থাকার চেষ্টা করবে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”