২৮ মাঘ, ১৪৩২ - ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ - 10 February, 2026

গঙ্গাচড়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন: ওসিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবি

5 months ago
277


নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের গঙ্গাচড়ার বড়াইবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ৫ সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের আয়োজনে আলী আরিফ সরকার রিজুর সঞ্চালনায় শুক্রবার বিকেলে কর্মরত সকল সাংবাদিকরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন—চ্যানেল এস-এর প্রতিনিধি সোহেল, মুক্ত খবরের প্রতিনিধি শিমু, দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার প্রতিনিধি আজমীর, চ্যানেল ওয়ান-এর রানু মিয়া এবং দৈনিক লিখনী সংবাদ-এর প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক। তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুললে প্রধান শিক্ষক আলমগীর জামানের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে একাধিক সাংবাদিক আহত হন এবং ক্যামেরাসহ অন্যান্য সরঞ্জামও ভাঙচুর ও ছিনতাই করা হয়।

সাংবাদিকরা আরও জানান, হামলার ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তার না করে ওসি সাংবাদিকদের মামলা নিতে গরিমাসি করেন এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। এটি প্রশাসনের গাফলতাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি ও কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি সাজু আহমেদ লাল। বক্তব্য দেন দৈনিক সকালের বানী পত্রিকার প্রতিনিধি মাহফুজার রহমান মাহফুজ, দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা প্রেসক্লাব আহ্বায়ক আব্দুল আলীম প্রামানিক এবং রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লুলু।

মাহফুজার রহমান মাহফুজ বলেন,সাংবাদিকদের ওপর হামলা মানে জনগণের কণ্ঠরোধের চেষ্টা। দুর্নীতি ও নিজের দায় ঢাকতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকদের উপর হামলা করিয়েছে । হামলাকারীদের মৌন সমর্থন ও মিথ্যা মামলা গ্রহনের দায় অফিসার ইনচার্জ  এড়াতে পারবেন না  । আপনার এই কর্মকাণ্ডে প্রমাণিত হয়েছে আপনি পরোক্ষভাবে গণমাধ্যমের মুখ চেপে ধরেছেন ।

আশরাফুল ইসলাম বলেন, বড়াইবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে সাংবাদিকরা তথ্য নিতে গিয়ে হামলার স্বীকার কোন নিছক ঘটনা নয়। প্রধান শিক্ষক আওয়ামী যুবলীগ নেতা লাবলুকে বিদ্যালয়ের আহবায়ক কমিটির আহবায়ক করেছিলেন কিন্তু সাংবাদিকদের সচেতন পদক্ষেপের কারণে সেই কমিটি বাতিল হয়, সেই ঘটনার জেরে যুবলীগ নেতার পরামর্শে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আমরা সব জানি, অনতিবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করুন, নইলে এর জবাব আপনাকেও দেয়া হবে ।

 

আব্দুল আলীম প্রামানিক (উপজেলা প্রেসক্লাব আহ্বায়ক) বলেন,আমরা কলম সৈনিক। আমাদের কলম কখনো থেমে থাকবে না। হামলাকারীরা ভেবেছে ভয় দেখিয়ে সাংবাদিক দমিয়ে রাখা যাবে—তারা ভুল করেছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে, সামনে সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে আরো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

সাজু আহমেদ লাল (প্রেসক্লাব সভাপতি) বলেন,সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ ও জনসাধারণকে সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার জন্য মাঠে কাজ করেন। তাদের ওপর হামলা মানে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের  ভিত নড়ে যাওয়া । আমরা দাবি জানাচ্ছি—হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের উপর হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন । আমরা স্পষ্টভাবে দাবি জানাচ্ছি—৭২ ঘন্টার মধ্যে ওসিকে অপসারণ করতে হবে, না হলে গঙ্গাচড়ার সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর কর্মসূচির দিকে যাবে।

রংপুর রিপোর্টাস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক  মিজানুর রহমান লুলু বলেন,সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। এখানে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে, উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা নেওয়া হচ্ছে।  এটি প্রশাসনের গাফিলতি ও পক্ষপাতিত্বকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। আমরা  পুনরায় বলছি,মামলা প্রত্যাহার ও ৭২ ঘন্টার মধ্যে ওসিকে অপসারণ করতে হবে, না হলে গঙ্গাচড়ার সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর কর্মসূচির দিকে যাবে।

বক্তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা গ্রহণের ঘটনায় নিন্দা ও  প্রতিবাদ জানান।মানববন্ধনে উপজেলার সকল সাংবাদিক উপস্থিত ছিলের্ন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth