জাতীয় পার্টির রাঙায় চাঙা লালমনিরহাট-১ আসন হাতিবান্ধা ও পাটগ্রামে বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ
লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা ও পাটগ্রাম থেকে ফিরে নির্মল রায়:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লালমনিরহাট-১ (হাতিবান্ধা ও পাটগ্রাম) আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙাকে কেন্দ্র করে এ দুটি উপজেলায় নতুন করে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়াচ্ছে। সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতিতে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে এলাকার রাজনীতি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙার পক্ষে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করার কাজ জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে হাতিবান্ধা ও পাটগ্রামের বিভিন্ন ইউনিয়নে ধারাবাহিক কর্মীসভা, মতবিনিময় সভা ও উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা অনেক নেতাকর্মী আবারও রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও জনবহুল স্থানে জাতীয় পার্টির ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার শোভা পাচ্ছে। দলীয় কার্যালয়গুলোতেও প্রতিদিন নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়ছে।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও দলের সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙা বলেন,
লালমনিরহাট-১ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার সঙ্গে বসবাস করছে। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। জনগণ যদি আমাদের ওপর আস্থা রাখে, তাহলে এই এলাকার সার্বিক উন্নয়নে আমরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারব।
স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতারা জানান, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে তাদের সমস্যা শোনা এবং সমস্যাগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি এবারের নির্বাচনে তাদের মূল কৌশল।
সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে নির্বাচনী আলোচনা। হাতিবান্ধা উপজেলার এক প্রবীণ ভোটার সামসুল আলম বলেন,
অনেকদিন পর এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা চোখে পড়ছে। রাঙা সাহেবসহ জাতীয় পার্টির নেতারা এখন নিয়মিত মানুষের কাছে আসছেন। যিনি এলাকার সমস্যার সমাধান করবেন, তাকেই ভোট দিতে চাই।
পাটগ্রাম উপজেলার তরুণ ভোটার সোহেল বলেন,
এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই কম। শুধু নির্বাচনের সময় নয়, নির্বাচনের পরও যিনি পাশে থাকবেন, আমরা তাকেই সমর্থন দেব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লালমনিরহাট-১ আসন ঐতিহ্যগতভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন। এখানে শেষ মুহূর্তে ভোটের সমীকরণ বদলে যাওয়ার নজির রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙার অভিজ্ঞতা ও জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক তৎপরতা যদি বর্তমান গতিতে অব্যাহত থাকে, তবে আসন্ন নির্বাচনে দলটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, মসিউর রহমান রাঙাকে ঘিরে জাতীয় পার্টির সক্রিয়তায় লালমনিরহাট-১ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে—আর সেই উত্তাপের রঙে নতুন করে রাঙছে হাতিবান্ধা ও পাটগ্রাম।
মসিউর রহমান রাঙা বলেন, রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার নয়, দায়িত্ব। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি চেষ্টা করেছি মানুষের কথা বলতে, মানুষের অধিকার রক্ষা করতে এবং জাতীয় স্বার্থে আপসহীন থাকতে।
আমি বিশ্বাস করি—উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা-ঘাট নয়, উন্নয়ন মানে শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান এবং মানুষের নিরাপদ ভবিষ্যৎ। আমি নির্বাচিত হলে সততা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব।
যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, বয়স্ক ও অসহায় মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা—এগুলো আমার অগ্রাধিকার। কোনো অন্যায়, দুর্নীতি বা বৈষম্যের সাথে আমি কখনো আপস করিনি, ভবিষ্যতেও করব না।
আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—জনগণের পাশে থাকব, সুখে-দুঃখে আপনাদের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করব। উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গঠনে আপনাদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি।