২২ মাঘ, ১৪৩২ - ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ - 04 February, 2026

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার, কাউনিয়ায় ইশতেহার ঘোষণা

3 days ago
57


নদী সংকট নয়, নদীকেই সম্ভাবনায় রূপ দিতে চাই

নিজস্ব প্রতিবেদক:

তিস্তা যেভাবে এই অঞ্চলে সংকট তৈরি করেছে, সেখানেই সম্ভাবনা সৃষ্টি করে হারানো সভ্যতা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চান বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর-৪ (কাউনিয়া–পীরগাছা) আসনের ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা রেলওয়ে ব্রিজের পাশে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির রংপুর মহানগর আহ্বায়ক আবু হাসান চঞ্চল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শান্তি কাদেরী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন, জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রেজা, কাউনিয়া উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুস সালাম, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক, উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী শাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

নদীর পাড়ে ইশতেহার ঘোষণার যৌক্তিকতা তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন,

বিশ্বের সভ্যতার ইতিহাস নদীকেন্দ্রিক। কিন্তু কালের পরিক্রমায় নদী আজ সংকটের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সেই নদীকেই ঘিরে সম্ভাবনা তৈরি করতে চাই। এ কারণেই তিস্তা পারে দাঁড়িয়ে ইশতেহার ঘোষণা করছি। উত্তরের লাইফলাইন তিস্তাকে সম্ভাবনার মাধ্যমে উন্নয়নের দ্বার খুলে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের সূচনা হবে। ইশতেহারে আখতার হোসেন দশটি সেক্টরে ৪৯ দফা প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো

প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সরকারি বরাদ্দপত্র উন্মুক্তভাবে প্রদর্শন করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, নরমাল ডেলিভারি সেন্টার স্থাপন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে কুইক রেসপন্স টিম গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইপিজেড বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি। অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিদ্যমান রেললাইন সংস্কার, ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ, আন্তঃনগর ট্রেন সংখ্যা বৃদ্ধি, সব কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ, প্রধান সড়ক প্রশস্তকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাস অন্তর পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলায় উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা আয়োজনের কথাও জানান আখতার হোসেন। পাশাপাশি প্রশাসনিক, আইনগত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত নাগরিক সেবা দিতে জনসেবা সেন্টার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।

তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজমুক্ত ব্যবসা পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে, নারীদের জন্য পাবলিক প্লেসে শৌচাগার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন করা হবে। কৃতি শিক্ষার্থীদের জন্য উপজেলা ভিত্তিক বার্ষিক বৃত্তি ও সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। পীরগাছা, কাউনিয়া ও হারাগাছের সরকারি হাসপাতালগুলোকে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনা হবে। ইশতেহারে দলিত হরিদাস, রবিদাস, সাঁওতাল সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা উন্নয়ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে পাটের হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে পাট চাষে সমন্বিত উদ্যোগ, আলু সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং পানি ছেড়ে দেওয়ার আগে ভারতকে অবহিত করতে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান আখতার হোসেন। পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে আলাদা চর মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। ইশতেহার পাঠের সময় পেছনে জীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা তিস্তা রেলওয়ে সেতুটি উপস্থিত জনতার দৃষ্টি কাড়ে। ইশতেহার ঘোষণাকালেই ওই সেতু দিয়ে দুটি ট্রেন চলাচল করার দৃশ্য যেন উন্নয়ন আর অবহেলার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth