১৬ চৈত্র, ১৪৩২ - ৩০ মার্চ, ২০২৬ - 30 March, 2026

জলঢাকা মহাসড়কে শতাধিক গাড়ীতে ডাকাতি, আতঙ্কে যাত্রী ও চালকরা

2 hours ago
48


ডাকাতের হামলার শিকার গাড়ির চালক ।
নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ

হাবিবুল হাসান হাবিব, ডিমলা (নীলফামারী):

নীলফামারীর তিস্তা ব্যারেজ- জলঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র

উপজেলা ঝুনাগাছ চাপানী সুইচগেট এলাকায় প্রায় শতাধিক যানবাহন থামিয়ে চালকদের মারধর করে  নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী, চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রাত আনুমানিক তিস্তা ব্যারেজ-ঝুনাগাছ চাপানী/জলঢাকা মহাসড়কে  ব্যারিকেড সৃষ্টি করে ডাকাতরা যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এরপর একে একে ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার  থামিয়ে ডাকাতি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডাকাতদের সংখ্যা ছিল ২০ থেকে ৩০ জনের মতো এবং তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্রসহ ধারালো অস্ত্র ছিল।

ঘটনার সময় একজন ট্রাক চালক বলেন, “হঠাৎ করে কয়েকজন অন্ত্রধারী ডাকাত দল গাড়ি থামিয়ে ভয় দেখিয়ে মোবাইল, টাকা-পয়সা কেড়ে নেয়। প্রতিবাদ করতে গেলে মারধরও করে। আরেকজন ট্রাকচালক জানান, “আমার ট্রাক থামানোর পর তারা কাগজপত্র চেক করার কথা বলে। পরে বুঝতে পারি তারা ডাকাত। আমার কাছে থাকা সব টাকা নিয়ে গেছে।

এলাকাবাসীরা জানান, এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই রাতে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। পর্যাপ্ত পুলিশ টহল না থাকায় ডাকাতচক্র সুযোগ নিয়ে প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটায়। তবে এক রাতে এত বড় পরিসরে শতাধিক যানবাহনে ডাকাতির ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে ততক্ষণে ডাকাতরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে।

ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমাদের জরুরী টহল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র এই ঘটনা ঘটিয়েছে।  এদিকে এই ঘটনায় ঐ এলাকায় যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই রাতে এই সড়কে যাতায়াত করতে ভয় পাচ্ছেন । ঘটনার পর উপজেলার পরিবহন শ্রমিকরাও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, নিয়মিত পুলিশ টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এর ব্যবস্থা করা না হলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, মহাসড়কে এমন বড় ধরনের ডাকাতি সংঘটিত হওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক ইঙ্গিত। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রাতের বেলায় পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকলে অপরাধীরা সহজেই সংগঠিত হয়ে এ ধরনের অপরাধ ঘটাতে পারে। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছেন ঘটনার পর থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

এই ঘটনার পর নীলফামারীর তিস্তা ব্যারেজ- উপজেলা চাপানী /জলঢাকা মহাসড়ক এখন চরম আতঙ্কের নাম। যাত্রী ও চালকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু ঘটনার পর অভিযান চালালেই হবে না, বরং স্থায়ীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত টহল, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

সবমিলিয়ে, এই ডাকাতির ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং পুরো অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কত দ্রুত এবং কার্যকরভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে।

 

 

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth