২২ চৈত্র, ১৪৩২ - ০৬ এপ্রিল, ২০২৬ - 06 April, 2026

কুড়িগ্রাম শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ৮১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিতে চাষীরা

5 hours ago
27


আহসান হাবীব নীলু, কুড়িগ্রাম:  

কুড়িগ্রামে  চলতি মৌসুমে তিস্তার চরাঞ্চলে বাম্পার ফলন হয়েছে মরিচসহ অন্যান্য ফসলের। কিন্তু সে খুশির খবরে জল ঢেলে দিয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কয়েকদিনের  শিলা বৃষ্টি  ও অতিবৃষ্টির কারণে জেলায় ৩ হাজার ৫৬৩জন কৃষকের ৮১৪ লক্ষ ৬৬২ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। এরমধ্যে অধিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ভুট্টা, চিনা, শাকসবজি, মরিচ ও কালোজিরা। তবে শিলা ও বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মরিচ বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে ভাল দাম পাচ্ছে না চাষীরা। এরফলে ফসলের খরচ ওঠাতে হিমসিম অবস্থা চাষীদের। জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলায় ব্রহ্মপূত্র, ধরলা ও তিস্তার চরাঞ্চলে এবারে ব্যাপকহারে শাকসবজি চাষ করে কৃষক । ফলনও ছিলো ভালো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এবার জেলার ব্রহ্মপূত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে ২৮ হাজার ৫২৮ হেক্টর জমিতে ভুট্টা, চিনা, সূর্যমূখী, শাক-সবজি, মরিচ ও কালোজিরা চাষ করা হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও শিলাঝড়ের কারণে ৫১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়। এতে সম্পূর্ণ ক্ষতি হয় ২৯৬ হেক্টর ফসল। এতে ৩ হাজার ২২ দশমিক ৮২ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদনে ক্ষতি হয়েছে। এতে ৩ হাজার ৫৬৩জন কৃষকের ৮১৪ লক্ষ ৬৬২ হাজার টাকার ক্ষতি সাধিত হয়।

সরজমিনে জেলার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর বিভিন্ন চরাঞ্চলে ঘুরে দেখা যায়, এক সময় থৈ-থৈ পানিতে ভরপুর তিস্তা নদীর শুকিয়ে যাওয়া বুক চিড়ে জেগে ওঠা চরাঞ্চলে শোভা পাচ্ছে সবুজের সমারোহ। বাদাম, চিনা, তিল, তিশি, পিঁয়াজ, রসুন আর সবুজ মরিচের ক্ষেতে চারদিকটা যেন সবুজ চাদরে ঢাকা পরেছে।

রাজারহাটের চর গতিয়াসামের মৃত: তমিজ উদ্দিনের ছেলে চাষী আব্দুল আজিজ (৭০) জানান, প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ করে ৯ শতক জমিতে মরিচ চাষ করেছি। এখনো খরচ ওঠাতে পারিনি। এরমধ্যে শিলা ও অতিবৃষ্টির কারণে মরিচ ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেখছেন না কতগুলা মরিচের ডাল পচে হলুদ হয়েছে।

আব্দুল আজিজের স্ত্রী আনোয়ার বেগম (৫৫) বলেন, দুই মেয়ে আর এক ছেলে নিয়ে আমাদের সংসার। ভাবছি এবার মরিচ বিক্রি করে লাভের টাকায় অনেক কিছু করবো। আজ বাজারে মরিচের দাম উঠেছে মাত্র ৬শ’ টাকা। দাম না উঠলে আমরা লোকসানে পরবো।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এবারে ১ হাজার ৩১৫ হেক্টর মরিচ চাষাবাদ হয়েছে। শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা ৮২০ হেক্টর মরিচ উত্তোলন করে ভাল দাম পান। কিন্তু মাঝখানে অতিবৃষ্টির ও শিলার কারণে গাছের ক্ষতি হয়। ফলে কৃষকরা একসাথে মরিচ উত্তোলন করে বাজারে নিয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই মরিচের দরপতন ঘটে। এরফলে অনেক কৃষক দেরীতে মরিচ উত্তোলন করায় ক্ষতির মুখে পরে।

এ ব্যাপারে রাজারহাট উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুন নাজার সাথী জানান, তিস্তার চরাঞ্চলে মরিচ, পিঁয়াজ, বাদামসহ অন্যান্য ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে যে পরিমাণ ফলন হয়েছে আমরা কৃষিবিভাগ মনে করছি তাতে কৃষকরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth