গঙ্গাচড়ায় মন্দিরে পুরোহিত–সেবায়েত নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, তদন্ত দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দুটি মন্দিরে পুরোহিত ও সেবায়েত নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
বুধবার (১১ মার্চ) গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বড়বিল ইউনিয়নের ঠাকুরাদহ হিন্দুপাড়ার সুমন চন্দ্র (৪৬), মন্টুরাম সরকার (৬৩) ও ভগলু চন্দ্র মহন্ত (৩৮) যৌথভাবে এ অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বড়বিল ইউনিয়নের ঠাকুরাদহ রাধাগোবিন্দ হরিমন্দিরে সুমন চন্দ্র পূজারী এবং মন্টুরাম সরকার ও ভগলু চন্দ্র মহন্ত সেবায়েত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ওই মন্দিরে পুরোহিত ও সেবায়েত পদে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পারেন।
তাদের অভিযোগ, মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অবগত না করে এবং দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারীদের বাদ দিয়ে শ্রী যোগেশ চন্দ্র রায়সহ আরও দুইজনকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আগে কখনও মন্দিরের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং এলাকায় প্রকৃত পূজারী হিসেবেও পরিচিত নন।
অভিযোগকারীরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শ্রী যোগেশ চন্দ্র রায়ের নিয়োগ বাতিল করে সুমন চন্দ্রকে পুরোহিত এবং মন্টুরাম সরকার ও ভগলু চন্দ্র মহন্তকে সেবায়েত হিসেবে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলে দৈনিক আমাদের প্রতিদিন ও খোলা কাগজ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে বলা হয়, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের মতামত না নিয়ে বেতগাড়ী এলাকার চারআনী শেরপুর সার্বজনীন হরি মন্দিরে পুরোহিত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিনোদ চন্দ্র রায়কে, যিনি মানিক রায়ের পুত্র। অন্যদিকে বড়বিল ইউনিয়নের ঠাকুরাদহ রাধাগোবিন্দ মন্দিরে সেবায়েত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শ্রী যোগেশ চন্দ্র রায়, পিতা কোনারাম রায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পুরোহিত ও সেবায়েত যাচাই-বাছাই কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি, সমাজসেবা কর্মকর্তা সদস্য সচিব এবং সদস্য হিসেবে ইসলামী ফাউন্ডেশনএর একজন প্রতিনিধি রয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।