১৭ চৈত্র, ১৪৩২ - ০১ এপ্রিল, ২০২৬ - 01 April, 2026

গঙ্গাচড়ায় ঝড়-শিলাবৃষ্টির ক্ষতিতে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষোভে ভুক্তভোগীরা

8 hours ago
216


নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনিয়া, চর চিলাখাল ও চর মটুকপুর গ্রামে গত শুক্রবার রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিনটি গ্রামের অধিকাংশ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি ভুট্টা, তামাকসহ বিভিন্ন ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ অবস্থায় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫৫০ জন ক্ষতিগ্রস্তের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। এছাড়া মাত্র ৫ জনকে টিন এবং আরও ৫ জনকে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও সমতা বজায় রাখা হয়নি। অনেক গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেয়ে শুধুমাত্র সামান্য চাল পেয়েছেন।

বিনবিনিয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত মন্টু মিয়া বলেন,

ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আমার ঘরের চালা ছিদ্র হয়ে যায়। শিলাবৃষ্টিতে আমি ঘরের মধ্যেই গুরুতর আহত হই এবং মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে। প্রতিদিন ওষুধের খরচ বহন করতে হচ্ছে। অথচ আমি এই গ্রামের একমাত্র আহত ব্যক্তি হয়েও শুধু ১০ কেজি চাল পেয়েছি, কোনো টিন বা আর্থিক সহায়তা পাইনি।

একই গ্রামের আশরাফুল ইসলাম বলেন,

আমি অন্যের জমিতে বসবাস করি। আমার টিনের ঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শুধু চাল পেয়েছি। আমরা দিনমজুর মানুষ, ঘর মেরামতের সামর্থ্য নেই। অথচ সচ্ছল ব্যক্তি টিন ও টাকা পেয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মনোয়ারুল ইসলাম বলেন,

আমরা কেবল ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে দিয়েছি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সরাসরি গিয়ে টিন ও টাকা বিতরণ করেছেন। মন্টু মিয়াও সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, কারণ তিনি আহত হয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজীবুল করিম বলেন, পরবর্তীতে আরও ২৬টি পরিবারকে টিন এবং ৬৭টি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ইউপি সদস্য তালিকায় মন্টু মিয়ার নামটি মার্ক করে দিলে আমরা সহায়তা দিতাম।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার বলেন, তালিকা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা করেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা যাচাই করা হয়েছে। বর্তমানে ২৬টি পরিবারের মাঝে টিন এবং ৬৭টি পরিবারের মাঝে ৩ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ১ হাজার ব্যক্তিকে ১০ কেজি হারে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের চাহিদা বিবেচনায় ৭৬৩টি পরিবারের জন্য টিন বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে সকল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার আওতায় আনা হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth