১৯ চৈত্র, ১৪৩২ - ০২ এপ্রিল, ২০২৬ - 02 April, 2026

৪ মাসেই থেমে গেল রাবির ই-কার: লোকসান, ভাড়া বিতর্ক ও যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ সেবা

5 hours ago
124


রাবি সংবাদদাতা:

শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সুবিধা দিতে চালু হওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ই-কার সেবা মাত্র চার মাসের মাথায় বন্ধ হয়ে গেছে। চালকদের লোকসান, ভাড়া সংক্রান্ত জটিলতা এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই পরিবহন সেবায় একের পর এক সমস্যা দেখা দেয়। সর্বশেষ গত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে ক্যাম্পাসজুড়ে ই-কার সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ই-কার) চালুর উদ্যোগ নেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (রুয়া)। গত বছরের ২৬ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে ৫টি ই-কার দিয়ে এ সেবা চালু করা হয়। পর্যায়ক্রমে গাড়ির সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও শুরুর কয়েকদিনের মধ্যেই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২টি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। ফলে দীর্ঘদিন মাত্র ৩টি গাড়ি দিয়েই সেবা চালানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চালকদের প্রতিদিন গাড়ির কোম্পানিকে ১ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিয়ে গাড়ি নিতে হতো। সারাদিন ক্যাম্পাসে গাড়ি চালিয়ে যে আয় হতো, সেটিই তাদের মজুরি হিসেবে থাকত। শুরুর দিকে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকলেও ধীরে ধীরে যাত্রীসংখ্যা কমে যায়। পাশাপাশি ভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় ওঠে। পরে ক্যাম্পাসে কয়েকটি নির্দিষ্ট স্টপেজ নির্ধারণ করে স্টপেজভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে রাকসুর বর্তমান জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নির্বাচনী ইশতেহারে ক্যাম্পাসে ৫ টাকা ভাড়ায় পরিবহন সেবা চালুর ঘোষণায় নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এতে চালক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাড়া নিয়ে মতানৈক্য আরও বাড়ে। চালকরা ভাড়া বৃদ্ধি বা স্টপেজভিত্তিক নির্দিষ্ট ভাড়া নিশ্চিতের দাবি জানালেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।

রাবির ই-কার সেবার ম্যানেজার এনায়েত কবির লিখন জানান, ‘আমরা কয়েকবার রুয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছি, কিন্তু কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। কোম্পানিও পর্যাপ্ত মুনাফা না হওয়ায় ক্যাম্পাসে গাড়ি চালাতে আগ্রহ দেখায়নি। ফলে দীর্ঘদিন সমস্যা চলার পর সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়।’

তিনি আরও জানান, গত রমজানের ছুটির মধ্যে কোম্পানির প্রতিনিধি ক্যাম্পাসে এসে ই-কারগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিক্রি করার প্রস্তাব দেন। এরই মধ্যে কোম্পানি ৩টি গাড়ি নিয়ে চলে গেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও আরবি বিভাগের অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘ই-কারগুলোর বিভিন্ন টেকনিক্যাল সমস্যার কারণেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। শুরুতে ভাঙা রাস্তা এড়িয়ে চলার পরিকল্পনা থাকলেও শিক্ষার্থীদের চাপের কারণে সব রাস্তায় চলাচল শুরু হয়। এতে গাড়িগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া এসব গাড়ি মেরামতের জন্য রাজশাহীতে পর্যাপ্ত টেকনিশিয়ান নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ৪ তারিখের মধ্যে নতুন করে গাড়ি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। সেগুলো ক্যাম্পাসে বিনামূল্যে চলাচলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে। প্রশাসন সম্মত হলে অল্প সময়ের মধ্যেই নতুনভাবে আবার এই পরিবহন সেবা চালু করা হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth