২০ বৈশাখ, ১৪৩৩ - ০৩ মে, ২০২৬ - 03 May, 2026

গঙ্গাচড়ার কোলকোন্দ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ

19 hours ago
75


দায়িত্বহীনতা, অব্যবস্থাপনা ও সেবাবঞ্চনায় ক্ষোভ চেয়ারম্যানের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চরম অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিরা। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। ফলে প্রতিদিনই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

সরকারি কাঠামো অনুযায়ী একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ৩ থেকে ৪ জন জনবল থাকার কথা। এর মধ্যে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (SACMO) প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার মূল দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু কোলকোন্দ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত SACMO আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার একাধিক অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা হলেও তিনি নিয়মিত দেরিতে, প্রায় সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রে উপস্থিত হন। এমনকি দায়িত্বকালীন সময়েও তাকে প্রায়ই কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করতে দেখা যায়। এতে করে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

শনিবার (২ মে) বেলা ২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসা কর্মকর্তা আহসান হাবীব  অনুপস্থিত। অনেকেই জানান, এটি একদিনের নয়—দীর্ঘদিন ধরে চলমান সমস্যা।

অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা  কমিটির সভাও নিয়মিত হয় না। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কেন্দ্রের টিন চুরি হওয়ার ঘটনাও সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট কাউকেই  অবহিত করা হয়নি। বিষয়টি দায়িত্বহীনতা ও গোপনীয়তার চরম উদাহরণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অবকাঠামোগত অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। ভবনের দেয়ালে ফাটল, চারপাশে জমে থাকা আবর্জনা ও আগাছায় পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।

এ বিষয়ে কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শরিফুল ইসলাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

“এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা কেন্দ্র। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যদি নিজের দায়িত্বই পালন না করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? নিয়মিত দেরিতে আসা, দায়িত্বে অবহেলা, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা—এসব কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দ্রুত তদন্ত এবং কঠোর ব্যবস্থা চাই।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে SACMO আহসান হাবীব বলেন, তিনি প্রতিদিন দেরি করেন না, মাঝেমধ্যে দেরি হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধ সরবরাহ প্রসঙ্গে তিনি জানান, “গত দুই মাস ধরে শুধু আমার কেন্দ্রেই নয়, সারা দেশের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেই কোনো ওষুধ বরাদ্দ নেই।”

মেডিকেল অফিসার (পরিবার পরিকল্পনা) রিফাত আরা বলেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজানুল হাসান বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের টিন হারানোর বিষয়ে তাকে কিছুই জানানো হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়বে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে স্বাস্থ্যসেবার মান পুনরুদ্ধার হয় এবং সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য সেবা নিশ্চিতভাবে পেতে পারেন।

 

 

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth