৩ আষাঢ়, ১৪৩১ - ১৭ জুন, ২০২৪ - 17 June, 2024
amader protidin

সাতশো ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়ে রেলের রাজশাহীতে দুঃসাহসিক অভিযান

আমাদের প্রতিদিন
3 months ago
213


‘স্যালুট’ বাংলাদেশ

রাজশাহী প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন কর্মকর্তার উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলো প্রায় সাতশো শিক্ষার্থী।

অথচ গত মঙ্গলবার রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন যান্ত্রিক সমস্যায় পড়ে ঢাকা থেকে ছাড়তে তিন ঘণ্টা বিলম্ব হওয়ায় তাদের সবার পরীক্ষা ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়াটাই গভীর অনিশ্চয়তায় পড়ে গিয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত ওই কর্মকর্তার বিশেষ উদ্যোগ ও তার টিমের অন্যদের সহযোগিতার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উৎসাহমূলক পদক্ষেপের সুবাদে নানা নাটকীয় ঘটনার মধ্যে পরীক্ষা শুরুর ২২ মিনিট আগেই ট্রেনটি ওই শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাজশাহীতে পেঁৗছাতে সক্ষম হয়।

এর জের ধরে গতকাল থেকেই সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার।

প্রশংসা করতে গিয়ে কেউ কেউ ভারতীয় ওয়েব সিরিজ ‘দ্য রেলওয়ে ম্যান’—এ ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার সময় রেল কর্মকর্তাদের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করছেন।

“একটা ঝুঁকি নিয়েই ফেললাম। ওরা আমাদের সন্তান। আর গত বছর আমার সন্তানের ভর্তি পরীক্ষার সময় দৌড়াদৌড়ির অভিজ্ঞতা আমার হয়েছিল।"

"আমার পুরো টিম দায়িত্ববোধ নিয়ে আগ্রহ সহকারে এই শিক্ষার্থীদের কথা ভেবেছে। উপাচার্য নিজেও অনেক সহানুভূতিশীল হয়ে আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন। ট্রেনের অন্য যাত্রীরাও সহায়তা করেছে”, বিবিসি বাংলাকে বলেছেন মি. তালুকদার।

ওই ট্রেনেই নিজের ছেলেকে নিয়ে যাচ্ছিলেন ঢাকার দেবাশীষ ঘোষ। মি. ঘোষ বলেন প্রথমে বিলম্ব ও অন্য কারণে তারা সবাই রেল কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বিরক্তি প্রকাশ করছিলেন।

“কিন্তু এরপর তারা যা করল সেটি অবিশ্বাস্য। এমন কী একটি স্টেশনে বলা হল যে বাচ্চাদের পরীক্ষায় দেরি হয়ে যাবে বলে পরের স্টেশনে দাঁড়ানো যাবে না, তাই পরের স্টেশনের যাত্রীরা আগেই নামতে পারেন। এ ঘোষণার পর পরের স্টেশনের যাত্রীরা নিঃশব্দে এক স্টেশন আগেই নেমে গেল। সব মিলিয়ে আসলেই অবিশ্বাস্য একটি ব্যাপার। রেল সত্যিই দারুণ কাজ করেছে”, বলছিলেন দেবাশীষ ঘোষ।

এদিকে ‘আজকের ধূমকেতুর যাত্রা’ শিরোনামে ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, গতকাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকা থেকে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী ধূমকেতু এক্সপ্রেস নামের ট্রেনে রওনা হন। ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছাড়তেই দেরি হয়ে যায়। বেলা ১১টায় হিসাব করে দেখা যায়, ট্রেনটি বেলা ৩টা নাগাদ রাজশাহীতে পেঁৗছাবে। পরীক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে ট্রেনটি অন্য ট্রেনকে বসিয়ে দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। লাহেড়ী মোহনপুর স্টেশনে এসে ধূমকেতুর ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পরীক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে শরৎনগরে বসা চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন এনে ধূমকেতু এক্সপ্রেস আবার চালু করা হয়। তখন হিসাব করে দেখা যায়, ট্রেনটি বিকেল ৪টায় রাজশাহীতে পেঁৗছাবে, তখন পরীক্ষা শুরু হয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে অসীম কুমার তালুকদার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। ট্রেন সর্বোচ্চ অনুমোদিত গতিতে চলছিল। তবে দুশ্চিন্তা ছাড়ছিল না। সময়মতো পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছিল। উপায় না পেয়ে আড়ানী স্টেশনের স্টপেজে ট্রেন না থামিয়ে থ্রম্ন পাস করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বেলা ৩টা ৩৮ মিনিটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ট্রেনটি থামে। পরে শিক্ষার্থীরা দ্রুত দৌড়ে পরীক্ষার হলে গিয়ে বসেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জিএম টাইম টু টাইম আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমরা জানতে পেরেছিলাম যে ধূমকেতু ট্রেনটি দেরিতে ছেড়েছে এবং পথের মধ্যে ইঞ্জিন নষ্ট হয়েছে। এসব কারণে পরীক্ষার্থীরা হলে কয়েক মিনিট দেরিতে এসেছে, আমরা মানবিক কারণে সেটা বিবেচনা করেছি।’

 

 

 

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়