টাকার পরিমান কম হওয়ায় সাবেক শিক্ষককে ফাঁসিয়ে দিলেন কর্মকর্তা
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারীর এমপিওভুক্ত করণে ঘুষের টাকার পরিমান কম হওয়ায় মাইদুল ইসলাম খান নামের এক সাবেক শিক্ষককে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা উপপরিচালক রোকসানা বেগমের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগির পরিবার।
মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা চরশৌলমারী ইউনিয়নের কাজাইকাটা এলাকার নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগি সাবেক শিক্ষক মাইদুল ইসলাম খানের স্ত্রী জাহানারা খাতুন।
তিনি জানান, রৌমারী উপজেলার কাজাইকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারীর এমপিও ভুক্তকরণ করার লক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে একাধিকবার আবেদন করা হয়। কিন্তু কোনো কারন ছাড়াই উপরোক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদনকৃত ফাইলগুলো বাতিল করা হয়। প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকে বেতন ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করে আসছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। পরে নিরুপায় হয়ে পুনরায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পেতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে আবেদন করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা উপপরিচালক রোকসানা বেগম আমার স্বামীর (মাইদুল ইসলাম খান) হোয়াটসঅ্যাপস নম্বরে যোগাযোগ করে বলে যে, নির্বাচিত সরকার আসলে আপনাদের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও হবে না। তাই গত ৯ ফেব্রুয়ারি দ্রুত আমার স্বামী মাইদুল ইসলাম খানকে আবেদনকৃত শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিও ভুক্তকরণ বাবদ একজন শিক্ষকের ছয় লাখ টাকা ও তিনজন কর্মচারীর জন্য জনপ্রতি তিন লাখ করে নয় লাখ। মোট ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য রংপুর আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অফিসে সরাসরি আসতে বলেন ওই কর্মকর্তা।
ভুক্তভোগির স্ত্রী জাহানারা খাতুন আরও জানান, কর্মকর্তার কথা অনুযায়ী ওই তারিখে এমপিওভুক্ত বাবদ আট লাখ টাকা নিয়ে গিয়ে ওই কর্মকর্তা রোকসানা বেগমের কাছে যাওয়া হয়। পরে টাকার পরিমান কম থাকায় আমার স্বামী সাবেক শিক্ষক মাইদুল ইসলাম খানের উপর উক্ত কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে তার অধীনস্থ কর্মকর্তা দ্বারা ব্যাগ থেকে জোর করে টাকা বের করে ও প্রশাসনের লোকজন এনে নাটকীয়তা তৈরি করে আমার স্বামীকে গ্রেপ্তার করানো হয়। ন্যায় বিচার চেয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা উপপরিচালক রোকসানা বেগম বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ মিথ্যা।