১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২ - ০৩ মার্চ, ২০২৬ - 03 March, 2026

রাজারহাটে ধুমধাম করে অনুষ্ঠিত হলো বট ও পাইকর গাছের বিয়ে

3 hours ago
18


রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় আয়োজন করা হলো বট ও পাইকর গাছের বর্ণাঢ্য বিয়ে। ঢাক-ঢোল, শামিয়ানা, আলোকসজ্জা আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্থানীয়দের বিশ্বাস-বট-পাকুড়ের (পাইকর) বিয়ে দিলে পরিবারের অমঙ্গল দূর হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনে দুঃখ-কষ্ট আসে না।

সোমবার (২ মার্চ) রাতে উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের সোমনারায়ণ সোনালুরকুটি গ্রামের সরকার বাড়িতে এ ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন করা হয়। এতে হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ অংশ নেন। নাচ-গান ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় দিনভর ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

এর আগে রোববার (১ মার্চ) বিকেলে বর ও কনের বাড়িতে মিষ্টিমুখ, পান খাওয়া ও আশীর্বাদসহ বিভিন্ন প্রাক-বিয়ের আচার সম্পন্ন হয়। পরদিন সকাল থেকেই ঢাক-ঢোল বাজিয়ে সাজানো হয় বিয়ের মণ্ডপ। কলাগাছ দিয়ে তৈরি করা হয় ছায়ামন্ডপ, টাঙানো হয় শামিয়ানা এবং দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা। দিনব্যাপী প্রায় এক হাজার মানুষের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। দুই বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীরা। পুরো আয়োজন দেখে মনে হচ্ছিল যেন সত্যিকারের কোনো ছেলে-মেয়ের বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সনাতন হিন্দু শাস্ত্রমতে ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষের দোলপূর্ণিমা তিথিতে শুভ লগ্নে পুরোহিত পরিমল পাঠক (কমল পাঠক) মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এ সময় ব্রাহ্মণ বরণ, জামাই বরণ, জাতি বরণ ও নাপিত বরণসহ বিভিন্ন রীতিনীতি পালন করা হয় এবং বস্ত্রদান করা হয়। হিন্দু বধূদের উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।

এই আয়োজনে কুমারী পাইকর গাছের পিতার ভূমিকায় ছিলেন সরকার বাড়ির গৌতম কোঙর এবং বরপক্ষের পিতার ভূমিকায় ছিলেন তার জ্যাঠাতো ভাই শ্রী কিরিত কান্তি রায়।

মঙ্গলবার(৩মার্চ) আয়োজক কিরিত কান্তি রায় জানান, “একই জায়গায় আমার বাড়িতে বট ও পাইকর গাছের জন্ম। আমার কোনো ছেলে নেই। তাই বট-পাকুড়ের বিয়ে দিয়ে সেই অভাব পূরণ করলাম। পাশাপাশি পরিবারের অমঙ্গল দূর এবং মেয়ের জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি কামনায় এই আয়োজন করেছি।”

পুরোহিত পরিমল পাঠক বলেন, “বট-পাইকরের এই বিয়ে মূলত সনাতন শাস্ত্রমতে সাবিত্রী-সত্যবানের প্রতীকী বিয়ে। বিশ্বাস করা হয়, সাবিত্রী তার স্বামী সত্যবানের জন্য অমরত্ব অর্জন করেছিলেন। সেই আধ্যাত্মিক বিশ্বাস থেকেই এমন আয়োজন করা হয়।”

ব্যতিক্রমী এই বিয়ে ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয় এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকে স্থানীয়দের কাছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth