রাজারহাটে জ্বালানি সংকট, ভোগান্তিতে কৃষক-যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ
প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম):
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ। উপজেলার দু’টি পেট্রোলপাম্পে ডিজেল ও পেট্রোল সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক চালককে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডিজেল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে কৃষি কাজে ব্যবহৃত শ্যালো ইঞ্জিন, মটর সাইকেল, মাইক্রোবাস, পেট্রোলচালিত সিএনজি, বাস ও ট্রাক চালকরা তেল না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। পাম্পে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। মটর সাইকেলে সর্ব্বোচ এক লিটার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে।
রাজারহাট বাজার এলাকার কয়েকজন মটরসাইকেল চালক বলেন, কিছুদিন আগে বাজারের অলি-গলিতে, রাস্তার ধারে অনুমোদনহীন পেট্রোলের দোকানে বোতলভর্তি পেট্রোল পাওয়া যেত। এখন কোথাও পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন সকালে পেট্রোলপাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। মাত্র এক লিটার পেট্রোল দেওয়া হয়। এতে আমাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
এদিকে চাকিরপশার তালুক গ্রামের নজরুল, হামিদুল ইসলাম, সেলায়মান, সুখদেব গ্রামের নুর হোসেন, কুড়ারপার এলাকার আজিজুল হক, ডাংরারহাট এলাকায় নুরনবীসহ অনেক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেলের প্রয়োজন বেশি। কিন্তু ডিজেল না পাওয়ায় জমিতে সেচ দিতে দেরি হচ্ছে। পানির অভাবে জমি চৌচির হয়ে ফেটে যাচ্ছে।
শ্যালো ইঞ্জিন মালিকদের দাবি, ডিজেল সংকটের কারণে দিনের বেশীর ভাগ সময় মেশিন বন্ধ থাকে। জমিতে সেচ দেয়া ব্যাহত হচ্ছে। সরবরাহ কম আসার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তারা জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, রাজারহাট উপজেলায় তিস্তা-রাজারহাটে একটি ও কুড়িগ্রাম আরকে রোডের ছিনাই গেট এলাকায় একটিসহ মাত্র দুটি তেলের পাম্প রয়েছে। পাম্প দু’টি মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ডিলার। তাই তারাঁ আজকে(৯মার্চ) ৬হাজার লিটার ডিজেল ও ৩হাজার লিটার পেট্রোল সরবারাহ করছে। কোথাও কোথাও সরবরাহের সমস্যা বা কৃত্রিম সংকটের কারণে সাময়িক ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে সোমবার(৯মার্চ) রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল ইমরান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।#