এমপি’র মতবিনিময় ডেকে অতিথিদের বিব্রত করলেন ইউএনও!
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হলেও আয়োজনে নানা অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। আমরা এমপি স্যারের সাথে ইফতার করবো। বাকিটা ইফতার নিয়ে চলে যান ইউএনও-র এমন ঘোষনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনেকেই নিজেদের বিব্রত হয়ে ইফতার না নিয়ে চলে যান ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। ১৬-লালমনিরহাট-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সুধীজন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, স্টেকহোল্ডার, সাংবাদিক, ইমাম, পুরোহিত ও স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
তবে একাধিক উপস্থিত সূত্র জানায়, অনুষ্ঠানটি মতবিনিময় সভা হিসেবে ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। শুরুতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন হক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এরপর তিনি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যের পরই কার্যত অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যায়।
অনেকের অভিযোগ, কোনো আনুষ্ঠানিক পরিচিতি পর্ব হয়নি। আমন্ত্রিত অতিথিদের পরিচয় তুলে ধরার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ফলে সভাটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা ও ফটোসেশনে সীমাবদ্ধ ছিল বলে মনে করেছেন অনেকে। এতে উপস্থিতদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
ইফতারের কয়েক মিনিট আগে ইউএনও অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষণা করেন এ সময় তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সরকারি কর্মকর্তারা এমপি স্যারের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেবেন। বাকিরা ইফতার নিয়ে চলে যান। এ ঘোষণার পর অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা ইফতার ছাড়াই বিব্রত হয়ে স্থান ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
উপস্থিত কয়েকজন জানান, এ ধরনের বাছাই করা আমন্ত্রণ ও আলাদা ব্যবস্থাপনা তাদের অস্বস্তিতে ফেলেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক হওয়া উচিত বলে তারা মত দেন।
হাতীবান্ধা বন্দর ব্যবসায়িক সমিতির সভাপতি সাহজাদ ফেরদৌস বাবু বলেন, এমন পরিস্থিতিতে তারা বিভ্রান্ত হয়েছেন। এর আগে এ ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হননি উল্লেখ করে তিনি বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংবাদকর্মী আব্দুর রহিম বলেন, ইউএনও নিজে মাত্র এক মিনিট বক্তব্য দেন এবং এরপর প্রধান অতিথিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন। সেখানে কোনো মতবিনিময় হয়নি, এমনকি পরিচিতি পর্বও হয়নি। ইফতারের কয়েক মিনিট আগে এমপি বক্তব্য শেষ করেন। পরে এমপি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা আলাদা কক্ষে ইফতার করেন। বাকিদের ইফতারি নিয়ে চলে যেতে বলেন ইউএনও । ইউএনও’র আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনিসগ অনেকেই ইফতার না নিয়েই স্থান ত্যাগ করেন বলে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন হক বলেন, কোনো ভুল ইচ্ছাকৃত ছিল না। ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসায় অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করতে হয়েছে। সবাই কথা বললে তার জন্য ভালো হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনেকে বক্তব্য দিতে না পারায় কষ্ট পেয়ে থাকতে পারেন স্বীকার করে ভবিষ্যতে বড় পরিসরে আরও আয়োজন করার কথা জানান ইউএনও।